ফেসবুকে যখন কেউ ধর্মীয় বিষয়ে লেখেন

কাউকে দ্বীনদার মনে করা আর কাউকে আলেম মনে করার মাঝে তফাত আছে। কাউকে দ্বীনদার মনে করার অর্থ হলো তিনি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করেন। কাউকে আলেম মনে করার অর্থ হলো, আমার জীবন কীভাবে দ্বীন অনুযায়ি পরিচালনা করবো, আধুনিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দ্বীনের সমাধান কী সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকার তিনি রাখেন।

ফেসবুকে যখন কেউ ধর্মীয় বিষয়ে লেখেন তখন আমি তাকে দ্বীনদার মনে করতে পারি। কিন্তু তাকে আলেম মনে করতে হলে অবশ্যই তার শিক্ষাগত অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা থাকতে হবে। দ্বীনদার আর আলেমের মাঝে তফাত হলো সুস্থ মানুষ আর চিকিৎসকের মত।

অনলাইনে দুধরণের প্রান্তিকতা দেখা যায় আজকাল। একদিকে কারো বাহ্যিক ধার্মিকতা দেখেই তাকে আলেম মনে করে সব বিষয়ে তার মতামত চাওয়া হয়। অপরদিকে দুয়েকজন প্রতারকের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে যাদের বাহ্যিক অবস্থা ভাল তাদের সবাইকে লেবাসধারী ভন্ড বলেও চালিয়ে দেয়া হয়। দুটিই খুব বাজে ধরণের প্রান্তিকতা।


এক্ষেত্রে আমরা সেই মূলনীতিই সামনে রাখবো যা হজরত উমর রা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,

‘নবিজির যুগে আমরা অহির মাধ্যমে মানুষকে চিনতাম। এখন অহির ধারা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তোমাদের বাহ্যিক আমল অনুসারে আমরা তোমাদেরকে বিচার করবো। যে ভালো কাজ প্রকাশ করবে আমরা তাকে কাছে টেনে নিব, তার ভেতরের অবস্থার দায় আমাদের নয়। আল্লাহ তার গোপন অবস্থার হিসাব নিবেন। যে আমাদের সামনে মন্দ প্রকাশ করবে আমরা তাকে বিশ্বাস করবো না, যদিও সে বলে তার গোপন অবস্থা ভাল। (বুখারি, ২৬৪১)

মূলনীতি হলো, আমরা যখন কারো বাহ্যিক অবস্থা ভালো দেখবো, তখন তার আভ্যন্তরিণ অবস্থা সম্পর্কে কুধারণা রাখবো না। অযথা তত্ত্বতালাশ করবো না। তাকে লেবাসধারি বলবো না। তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অযথা কুৎসা রটাবো না। সন্দেহ সংশয় ছড়াবো না। অন্য কেউ লেবাসধারী ছিল এই বলে আমরা এমন চিন্তা সমাজে ছড়াব না, যাতে মানুষ মনে করে বাহ্যিক লেবাস আর ধার্মিকতার কোনো মূল্যই নেই।

কারো বাহ্যিক আমল আখলাক ভালো দেখলে আমরা তাকে ভালো জানবো। তবে তাকে আলেম মনে করে নিজের দ্বীনের দায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দিব না। আবার এক দুইজন আলেমের বেশ নিয়ে প্রতারণা করেছে এই যুক্তিতে কারো বাহ্যিক ভালো অবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবো না।

অনেকে লেনদেন নিয়ে এ ধরণের কথা বলেন। অমুকের সাথে লেনদেন করেছি দ্বীনদার ভেবে, এখন সমস্যা হচ্ছে। এটা হয় নিজের ভুলের কারণেই। বাহ্যিক অবস্থা দেখে আপনি ভালো ধারণা রাখুন, কিন্তু যখন তার সাথে লেনদেন করবেন কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক করতে চাইবেন তখন তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার সুযোগ তো শরিয়তই রেখেছে। আপনি সেটা এড়িয়ে শুধু অনলাইন দেখেই বিশ্বাস করবেন কেন???
Selim it

The Qurʾān is considered the most sacred and important source of Islamic Law, which contains verses related to god, human beliefs and how a particular believer should live in this worldly life

Post a Comment

thank you for messaging

Previous Post Next Post