তিনি আমাকে এতটা ভালোবাসেন যে, আমরা এত খারাপ কাজে লিপ্ত থাকলে...

হে আমার রব! আমি তো আপনাকে ডেকে কখনো ব্যর্থ হইনি" -সূরা মারইয়াম আয়াত নং ৪

হযরত যাকারিয়া (আঃ) পূর্ণ বার্ধক্যে উপনীত হওয়া পর্যন্ত সন্তানহীন ছিলেন। তার স্ত্রীর মধ্যে সন্তান লাভের কোন সম্ভাবনাই ছিল না। এই অবস্থায় আল্লাহ তাআলা নিজের ক্ষমতাবলে তাদেরকে সন্তান দান করেন। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও খোদাভীরু।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর এর চেয়েও বড় ক্ষমতার নিদর্শন পেশ করছেন। এখানে তিনি হযরত মারইয়ামের (আঃ) ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন চির কুমারী। কোন পুরুষ তাকে কখনো স্পর্শ করে নাই। এভাবে বিনা পুরুষেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় পূর্ণ ক্ষমতাবলে তাঁকে সন্তান দান করেন। তার গর্ভে হযরত ঈসার (আঃ) জন্ম হয়, যিনি আল্লাহর মনোনীত নবী এবং তার রূহ ও কালেমা ছিলেন।
আমরা আল্লাহর কাছে কত কিছু চাই! এই চাওয়ার সময় কখনো কখনো আমরা মনে করি "আমি কি এর হকদার? আল্লাহ কি আমাকে দিবেন?" অথচ কত সময় আমরা খেয়ালও করিনা যে আমরা হয়ত যা চেয়েও পাইনি, তা আমাদের জন্য কল্যাণকর ছিল না। আবার কত চাওয়া আরো উত্তম কিছু দিয়ে পূর্ণ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আপনি যখন আল্লাহর ছোট ছোট বিনা চাওয়াতে পাওয়া জিনিসগুলোর দিকে একটু দৃষ্টিপাত করবেন, দেখবেন আসলে পাওয়ার পরিমাণ টা কত বেশি! সুবহান আল্লাহ!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা অন্তর্যামী। তাই মাঝে মাঝে আমরা মুখ ফুটে না চাইলেও, আমাদের অন্তরের সুপ্ত ইচ্ছাগুলি তিনি পূরণ করে দেন। কত দয়ালু তিনি! এই যে প্রতিদিন নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা বেঁচে আছি, কখনো এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি? এই যে এক চুমুক পানি পান করছি, তার শুকরিয়া আদায় করেছি? কত অসুখ থেকে বেঁচে আছি, চারপাশে একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন। না চাইতেই আল্লাহ আমাদের কত ভাল রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ!
তাহলে ভাবুন তো, আপনি সেই সত্তার কাছে চাওয়ার জন্য হাত তুলেছেন। তিনি কি আপনাকে ফিরিয়ে দিবেন? আপনি হাজারো পাপ করেছেন জীবনে। তাও আপনি অনুতপ্ত হলে উনি ক্ষমা করবেন বলেছেন। আপনি মন থেকে তাওবা করলে তিনি যে কত খুশি হন, তা হয়ত আপনি আমি উপলব্ধি করতেও পারবো না। তিনি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেন।

প্রতি শেষ রাতে প্রথম আসমানে আসেন। কেন? আপনার আমার তাওবা কবুলের জন্য। তিনি আমাদের এতটা ভালোবাসেন যে, আমরা এত খারাপ কাজে মশগুল থাকলেও সাথে সাথে তিনি পাকড়াও করেন না। তিনি সময় দেন সেই পাপ থেকে তাওবা করার জন্য। সুবহান আল্লাহ! এরপরও তাঁর থেকে আমরা মুখ ফিরিয়ে থাকি কিভাবে? কিভাবে দুনিয়াবি কাজকে তাঁর কাজের আগে স্থান দেই? আল্লাহুম্মাগফিরলী।
আল্লাহ তা'আলা এত সুমহান, তাঁর ভালোবাসার আধিক্য এতটাই বেশি, যে তাঁকে ডেকে আপনি কখনো নিরাশ হবেন না। তিনি তো বলেছেন তাঁর ওপর নির্ভরশীল হতে। এরপরও আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই। অথচ একবারও ভেবেই দেখিনা, তাঁর ওপর যে ভরসা করবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট! বাহ, আমরা আমাদের দুশ্চিন্তার ভাগ দেওয়ার জন্য অন্য মানুষ খুঁজি।

কে আমাকে আমার দুঃসময়ে একটু সঙ্গ দিবে তাই ভাবি।আর এদিকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা আমাদের সমস্ত দুশ্চিন্তার ভাগ নিয়ে আমাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য বসে আছেন। আমরা এত মাথাব্যথা না করে যদি শুধু তাঁর ওপরই নির্ভর করি, তবেই যখন সকল বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, তখন আর কি নিয়ে আমাদের এত আহাজারি?
আল্লাহকে ডাকেন। মন থেকে ডাকেন। কেঁদে কেটে ডাকেন। শেষরাতে উঠে জায়নামাজ টা আঁকড়ে ধরেন। দেখেন কিভাবে আপনার প্রতিপালক আপনার দু'হাত ভরিয়ে দেন, আপনার মনের সব ভার মুক্ত করে দেন! আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে উনি থাকতেই পারবেন না। মনে রাখবেন, উনি আর-রহমানুর রহীম, আল-গাফফার।
Selim it

The Qurʾān is considered the most sacred and important source of Islamic Law, which contains verses related to god, human beliefs and how a particular believer should live in this worldly life

Post a Comment

thank you for messaging

Previous Post Next Post