কি ভাবে ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারবো?'

আপনি কি বিশ্বাস করেন, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণের মাধ্যমে আমরা ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারবো?'

অবশ্যই, তাতে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই।

তাহলে আপনি এটাও নিশ্চয় বিশ্বাস করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বামী হিসেবে সবচেয়ে উত্তম ছিলেন?

আমির সাহেব ঠিক বুঝে পাচ্ছে না, সহসা রাকিবের এমন প্রশ্ন করার হেতু কি? রাকিবের এসব প্রশ্ন আজকের কথোপকথনের সাথে কতটা প্রাসঙ্গিক তা-ও তার পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও তিনি রাকিবের প্রশ্নের উত্তরে বললেন,

তিনি কেবলমাত্র স্বামী হিসেবে উত্তম ছিলেন না। বরঞ্চ সকল সেক্টরেই তিনি উত্তম ছিলেন। এবং উনার সম্পূর্ণ জীবন মানবজাতির জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলের উচিত উনাকে অনুসরণের  মাধ্যমে নিজেদের জীবন অতিবাহন করা।'

মা শা আল্লাহ চমৎকার বলেছেন। এখন নিশ্চয়ই  আপনি এটা মানতে সংশয় করবেন না যে, তিনি বাবা হিসেবেও অসাধারণ ছিলেন?

অসম্ভব! এ নিয়ে সংশয় করার কি'বা আছে? উনি তো নিজেই বলেছেন, ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) উনার কলিজার টুকরো। যে ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) কে দুঃখ দিবে, সে যেন রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দুঃখ দিল।[১] এ-থেকে সংশয়াতীত ভাবে হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে কতটা ভালোবাসতেন।'


আপনি এটা বিশ্বাস করেন যে রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাত্র যাকে অনুসরণ করলে সফলতা রয়েছে। আপনি এটাও বিশ্বাস করেন যে, তিনি সবার জন্য উত্তম আদর্শ। আবার আপনি এতেও কুণ্ঠা পোষণ করেন না যে তিনি পিতা হিসেবে সেরা ছিলেন। যদি তিনি সেরা পিতা হওয়ার পরে-ও তার কন্যা কে এমন একজনের সাথে বিয়ে দিতে পারেন, যার পক্ষে  বিয়ের সময় মোহর আদায় করার মতো সম্পদ ছিল না, তাহলে আপনি কেন পারবেন না?'

এতক্ষণ পর আমির সাহেব উপলব্ধি করলেন যে,  আজকের কথোপকথনের সাথে রাকিবের এসব প্রশ্নের যোগসূত্র আছে। তিনি রাকিবকে কিছু বলবেন তার আগেই রাকিব বলতে শুরু করলো,

কেবলমাত্র দাঁড়ি কিংবা টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করা রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত হতে পারে না। একজন মানুষের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত যা যা করা দরকার সকল বিষয়ে উনার সুন্নত রয়েছে। সহীহ হাদিস রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের উচিত তা যথাসাধ্য পালন করা। আঙ্কেল কিছু কথা বলবো মন দিয়ে শুনবেন। ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিয়ের জন্য বেশ ভালো ও সম্ভ্রান্ত পরিবার হতে প্রস্তাব আসছিল।

 কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল প্রস্তাব নাকচ করে অবশেষে আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তার একমাত্র কন্যার বিয়ে দেন। কারণ তিনি এমন একজনকে তার কন্যার জীবনসঙ্গী  হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন যে অনেক বেশি আল্লাহ ভীরু হবে। 

যার ঈমান অনেক বেশি দৃঢ় হবে। তাই তিনি আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু) কে তার কন্যার জীবনসঙ্গী হিশেবে পছন্দ করলেন। বিয়ের সময় আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু) এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে তার পক্ষে মোহর দেওয়ার মতো কোন সম্পদ ছিল না।

তখন রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু) কে তার ‘হতামী’ বর্মটি আনতে বললেন। এবং মোহর হিশেবে সেটাই দিতে বললেন। [২] অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পেয়ে আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু) বর্মটি বিক্রি করার উদ্দেশ্য বের হলেন। পথিমধ্যে উসমান (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তার দেখা হলে তিনি    ৪৭০ দিরহাম দিয়ে বর্মটি ক্রয় করে, পরবর্তীতে উপহার স্বরূপ সেটা আবারও আলী (রদিয়াল্লাহু আনহু) কে ফিরিয়ে দিলেন।


একবার গভীরভাবে অনুধ্যান করে দেখুন, মহামানবের একমাত্র কন্যার বিয়েটা কিভাবে সম্পন্ন হয়েছিল? রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই তার এ কাজটি সেটার বহির্ভূত না।

 আমি আপনাকে বলছি না যে এমন একজনের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে দিন যার কাছে কিছুই নেই। বরঞ্চ এমন একজনের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে দিন যে অনেক বেশি আল্লাহ ভীরু। কিন্তু আপনি তা না করে কেবলমাত্র সোসাইটি, স্ট্যানডার্ড, সম্ভ্রান্ত পরিবার, টাকাপয়সা এসব কে প্রায়োরিটি দিচ্ছেন।

অথচ মূল প্রায়োরিটির বিষয় হওয়া দরকার ছিল ‘ঈমান’! যে ছেলে আল্লাহ কে ভালোবাসে না কিংবা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ছেলে কিভাবে আপনার মেয়েকে খুশি রাখবে? অন্যপক্ষে যে আল্লাহ ভীরু সে আপনার মেয়ে কে প্রহার করতে কিংবা ভালো-মন্দ বলতে একাধিক বার চিন্তা করবে।

লম্বা একটি বক্তব্যের পর রাকিব থামলো। আমির সাহেব তার হাত মাথায় দিয়ে কিছুকাল চিন্তা করলো। অতঃপর রাকিবের কাঁধে হাত রেখে শান্ত গলায় বললো,

বিষয়টি কোনোদিনও এভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি নি। হয়তো তুমি না বললে করতাম ও না। ধন্যবাদ রাকিব, আজ তুমি আমাকে এক চমৎকার শিক্ষা দিয়েছ। এই শিক্ষার আলোকে এমন একজনের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেব যে হবে আল্লাহ ভীরু, ‘ঈমানদার’।'

ইন শা আল্লাহ। আমার কথাগুলো পজিটিভলি নিয়েছেন দেখে সত্যিই আমি বেশ আনন্দিত। সবাই যেন আপনার মতো..

রাকিবের কথা শেষ হতে না হতেই আমির সাহেব বলে উঠলেন,

তা রাকিব তুমি কবে বিয়ে করবে? যদি এখন করার পরিকল্পনা থাকে তাহলে আমাকে জানাবে। পাত্রী রেডি। একথা বলে একটি মুচকি হাসি দিয়ে আমির সাহেব হাঁটতে শুরু করলেন।

[১] সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৭১৪

[২] সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৩৭৫

Selim it

The Qurʾān is considered the most sacred and important source of Islamic Law, which contains verses related to god, human beliefs and how a particular believer should live in this worldly life

Post a Comment

thank you for messaging

Previous Post Next Post